Sunday, May 10, 2026

কৈলাসহরে রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন



প্রতিবেদন: অসীম দও, কৈলাসহর



বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় শনিবার ৯ মে ২০২৬ ঊনকোটি কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত হলো রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসব। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়, ঊনকোটি জেলা। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ, সমাজ শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক এবং শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, ঊনকোটি জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিক রাজেশ দেববর্মা, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহ-অধিকর্তা অজয় দে, কুমারঘাট পুর পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ দাস এবং কৈলাশহর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা দেবরায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা অধিকর্তা রাজিব দত্ত উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। পরে উপস্থিত অতিথিরা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। স্বাগত ভাষণে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিক রাজেশ দেববর্মা বলেন, এই শুভ দিনে সবাইকে একত্রিত করতে পেরে জেলা শিক্ষা দপ্তর গর্বিত। তিনি অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সকলকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী টিঙ্কু রায় বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবতার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিরন্তন নাম। তিনি শুধু কবি নন, একাধারে সাহিত্যিক, সুরকার, শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক হিসেবেও সমগ্র বিশ্বের কাছে সমাদৃত। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রচর্চা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাঁর আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে ক্রমবর্ধমান অবক্ষয় রোধ করতে হলে প্রত্যেক মানুষকে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ যে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই তাঁর জন্মজয়ন্তী উদযাপন সার্থক হবে। বক্তব্যে তিনি কবিগুরুর আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি হওয়ায় তা সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, ঊনকোটি জেলাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এই জেলায় রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন অডিটোরিয়াম নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্যনাট্য ও নৃত্যানুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ছাত্রছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মাত্রা প্রদান করে। রবীন্দ্রচেতনায় উদ্বুদ্ধ এই রাজ্যভিত্তিক আয়োজন ঊনকোটি জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন সংযোজন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

Saturday, May 9, 2026

উনকোটি জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিশু কল্যাণ পরিষেবা


অসীম দত্ত, কৈলাসহর



গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবা পৌঁছে দিতে আরও তৎপর হয়ে উঠেছে উনকোটি জেলা প্রশাসন। সরকারি স্বাস্থ্য ও শিশু কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে এবং পরিষেবার মান যাচাই করতে বৃহস্পতিবার চন্ডিপুর আরডি ব্লকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্র পরিদর্শনে যান উনকোটি জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডঃ তমাল মজুমদার (আইএএস)। প্রশাসনের এই সক্রিয় উদ্যোগকে এলাকাবাসী অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
পরিদর্শনকালে জেলাশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহরের মহকুমা শাসক বিপুল দাস, চন্ডিপুর ব্লকের বিডিও দেবপ্রিয়া দাস সহ জেলা সমাজ শিক্ষা পরিদর্শক বিদ্যাসাগর দেববর্মা । প্রশাসনিক দলটি প্রথমে চন্ডিপুর, রাংরুং ও সরোজিনী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা পুষ্টিকর খাদ্যের গুণমান, রান্নার পরিবেশ, স্বাস্থ্যবিধি, শিশুদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পরিষেবার পরিস্থিতি খুঁটিয়ে দেখা হয়।
শুধু তাই নয়, শিশুদের টিকাকরণ সংক্রান্ত নথিপত্রও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। কোনও শিশু টিকাকরণ কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে কিনা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে কিনা এবং মা ও শিশুদের জন্য চালু সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শিশুদের সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শতভাগ টিকাকরণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্য সফল করতে নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি চালিয়ে যাওয়া হবে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক দল কৈলাসহরের হলাইছড়ায় অবস্থিত নিশিরঞ্জন নন্দিতা মেমোরিয়াল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসা পরিষেবার মান, রোগীদের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতও শোনেন আধিকারিকরা।
পরিদর্শনের সময় জেলাশাসক সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সময়মতো স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পুষ্টিকর খাদ্যের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও ক্ষেত্রেই পরিষেবার ঘাটতি বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি আরও বলেন, শিশু, মা ও সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং সেই উদ্দেশ্য পূরণে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
এই পরিদর্শনের মাধ্যমে উনকোটি জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিশু কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে কোনওরকম শৈথিল্য মেনে নেওয়া হবে না। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক ডঃ তমাল মজুমদার।

Friday, May 8, 2026

তিন রাজ্যে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে চন্ডীপুরে উৎসবের আবহ, বিজয় মিছিলে জনসমুদ্র

 



প্রতিবেদন : অসীম দও


পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির উল্লেখযোগ্য জয়ের আনন্দে উচ্ছ্বাসে মাতল চন্ডীপুর। ঐতিহাসিক এই সাফল্যকে সামনে রেখে চন্ডীপুর বিধানসভা এলাকায় বিজেপির পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয় মিছিলটি চন্ডীপুর বিজেপি মন্ডল কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে। পরে কৈলাসহর ৫৩ বিধানসভা এলাকার একাধিক রাস্তা ঘুরে পুনরায় চন্ডীপুর মন্ডল কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলজুড়ে ছিল কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, দলীয় পতাকা, স্লোগান এবং ঢাক-ঢোলের শব্দে মুখরিত পরিবেশ। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চন্ডীপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চন্ডীপুর মন্ডল সভাপতি পিন্টু ঘোষ, ঊনকোটি জেলা পরিষদের সদস্য শ্যামল দাস-সহ বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক।

মিছিল শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন,

“এই বিজয় শুধুমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টির নয়, এটি দেশের সাধারণ মানুষের জয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমুখী ভাবনা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার ফলেই দেশের মানুষ পুনরায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যের এই ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের পক্ষেই রায় দিচ্ছেন। ত্রিপুরাতেও বিজেপি সরকার মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এবং আগামী দিনেও উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

বিজয় মিছিলে যুব মোর্চা, মহিলা মোর্চা-সহ দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো কর্মসূচি ঘিরে চন্ডীপুর এলাকায় দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা রাজনৈতিক কর্মসূচি ।


https://data527.click/505d5c20a386b2838cf3/816e2836cb/?placementName=default

Thursday, July 10, 2025

Awareness Programme on Road Safety at Unakoti KalaKshetra

Awareness Programme on Road Safety at Unakoti KalaKshetra









Correspondent: Ashim Datta, Kailashahar



An exceptional awareness programme on road safety was organized on Tuesday, 8th July at 6 PM at the Unakoti Kala Kshetra in Kailashahar. The initiative was taken by Zara Foundation in collaboration with the Transport Department of the Government of Tripura. The core message of the event was:

“Let roads be a path of peace, not death. Livelihood comes after life—No more road accidents.”

The primary objective of the programme was to raise public awareness about road safety and encourage collective responsibility toward building an accident-free society. With the rising number of road accidents every day in our country, such initiatives have become the need of the hour.

The event began with the lighting of the ceremonial lamp, inaugurated by Chapala Debroy, Chairperson of Kailashahar Municipal Council. Dignitaries present included Pradip Sarkar, Sub-Divisional Magistrate, Mobashwar Ali, Chairman of Tripura Waqf Board, Mosahid Ali, head of Zara Foundation, along with officials from the traffic department.

In their speeches, the speakers highlighted that road safety is an integral part of our daily lives. They pointed out that most road accidents result from negligence, lack of awareness, and non-compliance with traffic rules.

Simple precautions—such as using zebra crossings, following traffic signals, and wearing helmets and seatbelts—can prevent many accidents. They emphasized that whether we are pedestrians, cyclists, motorcyclists, or passengers, we all share the responsibility of staying safe and ensuring the safety of others.

Such programmes do not just make individuals aware but also help spread awareness across communities. As the speakers rightly said, one person’s caution is not enough; everyone must follow the rules. If we all become more conscious, the number of road accidents can be significantly reduced.

The event saw a notable turnout, including students from schools and colleges, guardians, teachers, local social workers, drivers, and pedestrians. Through this initiative, a strong message was sent to the public — safe roads are everyone’s right and responsibility.

Zara Foundation has long been involved in organizing various social awareness programmes. This recent effort is undoubtedly another step toward making commuters more responsible and saving many lives.

The programme concluded with a special cultural performance by the renowned National Rhythm Orchestra of Tripura, organized by Zara Foundation at Unakoti Kala Kshetra.

The event ended with a collective appeal to all: “Let’s say together: No more road accidents! We demand safe roads for all!”





Tuesday, July 8, 2025

Congress Protest Rally in Kailashahar Against Attack on MLA Gopal Roy

Congress Protest Rally in Kailashahar Against Attack on MLA Gopal Roy


Correspondent: Ashim Datta, Kailashahar


Kailashahar, July 7:

A rare and striking scene unfolded today on the streets of Kailashahar. Loud slogans, banners, festoons, and a surge of people turned the city into a hub of political resistance. The air was heavy with the chants of protest.

The reason behind this demonstration was the brutal attack on Tripura Congress MLA Gopal Chandra Ray. Allegations suggest that the assault was carried out with the intent to kill, orchestrated by BJP-affiliated goons. In response, the Kailashahar District Congress Committee organized this protest rally to strongly condemn the incident.

The protest was led by the respected President of the Kailashahar District Congress Committee, Mr. Md. Badruzzaman. His resolute voice echoed the message loud and clear—Congress will not tolerate any injustice.


Among those who joined the rally were: Rudrendu Bhattacharya, former General Secretary of the Tripura Pradesh Congress Committee, Ranu Mia, General Secretary of the District Congress Committee, Abdul Hadi, Acting President of the Block Congress Committee. Numerous other Congress leaders, workers, and local citizens

The protest rally began in front of the District Congress Bhavan, marched through key routes in the city, and concluded at the same starting point. After the rally, District Congress President Badruzzaman addressed the media, stating that when MLA Gopal Ray went to attend a party event in his constituency, BJP Yuva Morcha activists attacked him. He further alleged that in the presence of police, the MLA was locked inside a house and held captive.

Later, a large contingent of police rescued Gopal Ray. Badruzzaman stated, “There is no democracy left in this state. Democracy is under siege.” He confirmed that a police complaint has been filed against the accused, demanding an impartial investigation and strict punishment for those responsible.

The protest also highlighted other issues, such as the covert hike in electricity tariffs, skyrocketing prices of essential commodities, and the lack of employment opportunities for the youth. These concerns added fuel to the agitation.

The rally demanded immediate restoration of democratic values in the state. Mohammad Badruzzaman urged the public to join the fight to save democracy. He also issued a warning—if the government does not withdraw anti-people decisions like electricity tariff hikes and fails to address unemployment, the Congress will be compelled to launch a larger movement in the coming days.  While political differences are natural in a democracy, an attack on an elected representative is both condemnable and alarming. Today’s protest made it clear that the Congress party will not remain silent. This incident has already stirred fresh turbulence in Tripura’s political landscape. All eyes are now on the authorities, waiting to see if justice will prevail.



Sunday, July 6, 2025

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন




প্রতিবেদন : অসীম দও, কৈলাসহর



গত এক দশকে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় এসেছে এক অভূতপূর্ব রূপান্তর। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে, যে শিক্ষা একসময় শুধুমাত্র বই-খাতা, ব্ল্যাকবোর্ড আর শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, আজ তা পৌঁছে গেছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে ঘরে ঘরে। ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষাকে করে তুলেছে আরও সহজ, গণমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সময়োপযোগী।
২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে “ডিজিটাল ইন্ডিয়া” কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকেই শিক্ষা খাতকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার এক বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়। NEP 2020 (জাতীয় শিক্ষা নীতি) অনুসারে শিক্ষা হবে বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতা ভিত্তিক।
সরকার চালু করে একাধিক ডিজিটাল শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম:
DIKSHA (Digital Infrastructure for Knowledge Sharing): এই প্ল্যাটফর্মে ৩৫টি ভাষায় বিভিন্ন ক্লাসের ই-বুক, ভিডিও লেকচার, কুইজ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা রয়েছে। আজ পর্যন্ত ৫০ কোটি শিক্ষার্থী এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে।
SWAYAM (Study Webs of Active Learning for Young Aspiring Minds): উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি অনলাইন কোর্স। এখানে ২০০০-এরও বেশি কোর্স রয়েছে।
e-Pathshala: NCERT-এর ডিজিটাল পাঠ্যবই, অডিও, ভিডিও, কুইজ সহ একটি সম্পূর্ণ অ্যাপ। PM eVIDYA: One Nation One Digital Platform - এর অংশ হিসেবে সারা দেশে ‘চান্দা টিভি’ চ্যানেলে শ্রেণি অনুসারে পাঠ সম্প্রচার। এছাড়া রাজ্য সরকারগুলিও (যেমন: কেরালা, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, দিল্লি) নিজেদের মতো করে ডিজিটাল শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছে।
২০২০ সালের মার্চে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে যখন দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়, তখন অনলাইন শিক্ষা ছিল একমাত্র ভরসা। Zoom, Google Meet, Microsoft Teams-এর মতো ভিডিও প্ল্যাটফর্মে শিক্ষকেরা ঘরে বসে শিক্ষাদান শুরু করেন।
সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হাজার হাজার অনলাইন কোর্স তৈরি হয়। শিশুরাও প্রথমবার অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নেয়, এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল অ্যাসাইনমেন্ট চালু হয়।
এক জরিপে দেখা গেছে: ২০২০-২১ সালের মধ্যে ভারতে ২৪ কোটি শিক্ষার্থী অনলাইন শিক্ষায় অংশ নেয়। BYJU’S, Vedantu, Unacademy-এর মতো অ্যাপগুলোতে ২০২১-২২ সালে ব্যবহারকারী বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটিতে। ইউটিউবে শিক্ষাবিষয়ক চ্যানেলগুলোর দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি পায় ২০০%।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষকদের ভূমিকা বদলেছে। আগে যেখানে শুধু মুখে বোঝানো হতো, এখন ভিডিও, অ্যানিমেশন, মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বোঝানো হয়। তাই শিক্ষককেও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হচ্ছে। সরকার CBSE ও NCERT-এর মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ডিজিটাল কোর্স চালু করেছে। এখন পর্যন্ত DIKSHA-তে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ EdTech (Education + Technology) হাব। বেশ কিছু উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান শিক্ষাকে ব্যবসার গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
উদাহরণ হিসাবে, BYJU’S: বর্তমানে ১৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী যুক্ত। ইন্টার‌্যাক্টিভ ভিডিও, কুইজ, লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে শেখায়।  Vedantu: ভারচুয়াল লাইভ ক্লাস সিস্টেম, স্কুল ও জেইই/নিট প্রস্তুতির জন্য জনপ্রিয়।
Unacademy: UPSC সহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে অগ্রণী। PhysicsWallah: মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সুলভ মূল্যে উচ্চমানের অনলাইন শিক্ষা।
 ডিজিটাল শিক্ষার উপকারিতাও আছে অনেক, গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই এক মানের শিক্ষা পাওয়া সম্ভব ।  যাতায়াত ছাড়াই ক্লাস করা যায় । ভিডিও, কুইজ, ই-বুক ইচ্ছেমতো সময়ে দেখা ।
কুইজ, এসাইনমেন্টের মাধ্যমে দ্রুত ফলাফল ।  কোডিং, ডাটা অ্যানালিটিক্স, ডিজাইন প্রভৃতি আধুনিক বিষয়ে কোর্স সহজলভ্য
তবে প্রযুক্তির এই জয়যাত্রার মাঝেও রয়েছে কিছু বাধা, গ্রামীণ ভারতে এখনও ৪৫% শিক্ষার্থীর নেই স্মার্টফোন বা নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট । ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম—এই ব্যবধান ডিজিটাল বিভাজন সৃষ্টি করছে । শিক্ষকের প্রযুক্তি জ্ঞান সীমিত: অনেক প্রবীণ শিক্ষক অনলাইন ক্লাস নিতে দ্বিধাগ্রস্ত । অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পড়াশোনার পরিবর্তে গেমিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তির ঝুঁকি ।অনলাইন পরীক্ষায় নকল বা ফাঁকি দেওয়া সহজ ।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন: সকলের জন্য সাশ্রয়ী ডিভাইস ও ইন্টারনেট, ডিজিটাল শিক্ষায় বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার,
গ্রামে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ,  শিশুদের নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ।
জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী, ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে "Tech-enabled blended learning", অর্থাৎ অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার সমন্বয়ে। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (VR), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML)-এর মতো প্রযুক্তি শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতের পথনির্দেশক। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও সমতার ভিত্তিতে ডিজিটাল শিক্ষা হতে পারে ভারতের ১৩৫ কোটির মানুষের জ্ঞান ভিত্তিক উন্নয়নের ভিত্তি। আজকের শিক্ষার্থী প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে সে শুধু চাকরি নয়, বরং উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাবে—আর এভাবেই গড়ে উঠবে এক আত্মনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ভারত ।


Friday, July 4, 2025

আগরতলায় প্রস্তুতিমূলক সভা: সফল আয়োজনের লক্ষ্যে উদ্যোগী রাজ্য প্রশাসন

আগরতলায় প্রস্তুতিমূলক সভা: সফল আয়োজনের লক্ষ্যে উদ্যোগী রাজ্য প্রশাসন


প্রতিবেদন - অসীম দও




আগরতলা, ৪ জুলাই: ২০২৫ সালের উত্তর-পূর্ব NSS উৎসব এবং স্কাউট ও গাইডদের জন্য “এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত” থিমে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম জাতীয় ইন্টিগ্রেশন ক্যাম্প-কে কেন্দ্র করে আজ শিক্ষা ভবনের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সভা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ সমাজ শিক্ষা যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক এবং শ্রমদপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় । এছাড়াও রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্তরের কর্মসূচিকে সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নানা দিক নিয়ে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। কর্মসূচিগুলির পরিকল্পনা, সমন্বয়, নিরাপত্তা, আবাসন ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত বিষয়গুলি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় সভায়।




সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই ধরনের উদ্যোগ কেবলমাত্র যুব সমাজের মনন ও চরিত্র গঠনে সহায়ক হবে না, বরং জাতীয় সংহতি ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের উত্তর-পূর্ব NSS উৎসব এবং “এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত” থিমে আয়োজিত জাতীয় ইন্টিগ্রেশন ক্যাম্প একটি স্মরণীয় ও গর্বের অধ্যায় হয়ে উঠবে— এমনটাই মত সভায় উপস্থিত আধিকারিকদের।



উল্লেখ্য, এই দুই কর্মসূচিই রাজ্যের জন্য এক বিশেষ সম্মান এবং সুযোগ, যা ত্রিপুরাকে জাতীয় পর্যায়ে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।


কৈলাসহরে রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন

প্রতিবেদন: অসীম দও, কৈলাসহর বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় শনিবার ৯ মে ২০...