Sunday, May 10, 2026

কৈলাসহরে রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন



প্রতিবেদন: অসীম দও, কৈলাসহর



বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় শনিবার ৯ মে ২০২৬ ঊনকোটি কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত হলো রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসব। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়, ঊনকোটি জেলা। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ, সমাজ শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক এবং শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, ঊনকোটি জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিক রাজেশ দেববর্মা, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহ-অধিকর্তা অজয় দে, কুমারঘাট পুর পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ দাস এবং কৈলাশহর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা দেবরায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা অধিকর্তা রাজিব দত্ত উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। পরে উপস্থিত অতিথিরা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। স্বাগত ভাষণে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিক রাজেশ দেববর্মা বলেন, এই শুভ দিনে সবাইকে একত্রিত করতে পেরে জেলা শিক্ষা দপ্তর গর্বিত। তিনি অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সকলকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী টিঙ্কু রায় বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবতার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিরন্তন নাম। তিনি শুধু কবি নন, একাধারে সাহিত্যিক, সুরকার, শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক হিসেবেও সমগ্র বিশ্বের কাছে সমাদৃত। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রচর্চা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাঁর আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে ক্রমবর্ধমান অবক্ষয় রোধ করতে হলে প্রত্যেক মানুষকে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ যে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই তাঁর জন্মজয়ন্তী উদযাপন সার্থক হবে। বক্তব্যে তিনি কবিগুরুর আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি হওয়ায় তা সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, ঊনকোটি জেলাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এই জেলায় রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন অডিটোরিয়াম নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্যনাট্য ও নৃত্যানুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ছাত্রছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মাত্রা প্রদান করে। রবীন্দ্রচেতনায় উদ্বুদ্ধ এই রাজ্যভিত্তিক আয়োজন ঊনকোটি জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন সংযোজন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

Saturday, May 9, 2026

উনকোটি জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিশু কল্যাণ পরিষেবা


অসীম দত্ত, কৈলাসহর



গ্রামের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবা পৌঁছে দিতে আরও তৎপর হয়ে উঠেছে উনকোটি জেলা প্রশাসন। সরকারি স্বাস্থ্য ও শিশু কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখতে এবং পরিষেবার মান যাচাই করতে বৃহস্পতিবার চন্ডিপুর আরডি ব্লকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্র পরিদর্শনে যান উনকোটি জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডঃ তমাল মজুমদার (আইএএস)। প্রশাসনের এই সক্রিয় উদ্যোগকে এলাকাবাসী অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
পরিদর্শনকালে জেলাশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহরের মহকুমা শাসক বিপুল দাস, চন্ডিপুর ব্লকের বিডিও দেবপ্রিয়া দাস সহ জেলা সমাজ শিক্ষা পরিদর্শক বিদ্যাসাগর দেববর্মা । প্রশাসনিক দলটি প্রথমে চন্ডিপুর, রাংরুং ও সরোজিনী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা পুষ্টিকর খাদ্যের গুণমান, রান্নার পরিবেশ, স্বাস্থ্যবিধি, শিশুদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পরিষেবার পরিস্থিতি খুঁটিয়ে দেখা হয়।
শুধু তাই নয়, শিশুদের টিকাকরণ সংক্রান্ত নথিপত্রও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। কোনও শিশু টিকাকরণ কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে কিনা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে কিনা এবং মা ও শিশুদের জন্য চালু সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে কিনা, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শিশুদের সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শতভাগ টিকাকরণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্য সফল করতে নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি চালিয়ে যাওয়া হবে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক দল কৈলাসহরের হলাইছড়ায় অবস্থিত নিশিরঞ্জন নন্দিতা মেমোরিয়াল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসা পরিষেবার মান, রোগীদের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতও শোনেন আধিকারিকরা।
পরিদর্শনের সময় জেলাশাসক সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সময়মতো স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পুষ্টিকর খাদ্যের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও ক্ষেত্রেই পরিষেবার ঘাটতি বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি আরও বলেন, শিশু, মা ও সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং সেই উদ্দেশ্য পূরণে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
এই পরিদর্শনের মাধ্যমে উনকোটি জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিশু কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে কোনওরকম শৈথিল্য মেনে নেওয়া হবে না। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক ডঃ তমাল মজুমদার।

Friday, May 8, 2026

তিন রাজ্যে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ে চন্ডীপুরে উৎসবের আবহ, বিজয় মিছিলে জনসমুদ্র

 



প্রতিবেদন : অসীম দও


পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির উল্লেখযোগ্য জয়ের আনন্দে উচ্ছ্বাসে মাতল চন্ডীপুর। ঐতিহাসিক এই সাফল্যকে সামনে রেখে চন্ডীপুর বিধানসভা এলাকায় বিজেপির পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বিজয় মিছিলটি চন্ডীপুর বিজেপি মন্ডল কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে। পরে কৈলাসহর ৫৩ বিধানসভা এলাকার একাধিক রাস্তা ঘুরে পুনরায় চন্ডীপুর মন্ডল কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলজুড়ে ছিল কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, দলীয় পতাকা, স্লোগান এবং ঢাক-ঢোলের শব্দে মুখরিত পরিবেশ। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চন্ডীপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চন্ডীপুর মন্ডল সভাপতি পিন্টু ঘোষ, ঊনকোটি জেলা পরিষদের সদস্য শ্যামল দাস-সহ বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক।

মিছিল শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন,

“এই বিজয় শুধুমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টির নয়, এটি দেশের সাধারণ মানুষের জয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমুখী ভাবনা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার ফলেই দেশের মানুষ পুনরায় বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যের এই ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের পক্ষেই রায় দিচ্ছেন। ত্রিপুরাতেও বিজেপি সরকার মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এবং আগামী দিনেও উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

বিজয় মিছিলে যুব মোর্চা, মহিলা মোর্চা-সহ দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো কর্মসূচি ঘিরে চন্ডীপুর এলাকায় দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা রাজনৈতিক কর্মসূচি ।


https://data527.click/505d5c20a386b2838cf3/816e2836cb/?placementName=default

কৈলাসহরে রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন

প্রতিবেদন: অসীম দও, কৈলাসহর বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় শনিবার ৯ মে ২০...