প্রতিবেদন: অসীম দও, কৈলাসহর
বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহযোগিতায় শনিবার ৯ মে ২০২৬ ঊনকোটি কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত হলো রাজ্যভিত্তিক রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসব। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়, ঊনকোটি জেলা। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ, সমাজ শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক এবং শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, ঊনকোটি জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিক রাজেশ দেববর্মা, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহ-অধিকর্তা অজয় দে, কুমারঘাট পুর পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ দাস এবং কৈলাশহর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা দেবরায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় শিক্ষা অধিকর্তা রাজিব দত্ত উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। পরে উপস্থিত অতিথিরা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। স্বাগত ভাষণে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা আধিকারিক রাজেশ দেববর্মা বলেন, এই শুভ দিনে সবাইকে একত্রিত করতে পেরে জেলা শিক্ষা দপ্তর গর্বিত। তিনি অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং উপস্থিত সকলকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী টিঙ্কু রায় বলেন, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবতার ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিরন্তন নাম। তিনি শুধু কবি নন, একাধারে সাহিত্যিক, সুরকার, শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক হিসেবেও সমগ্র বিশ্বের কাছে সমাদৃত। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রচর্চা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাঁর আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে ক্রমবর্ধমান অবক্ষয় রোধ করতে হলে প্রত্যেক মানুষকে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ যে সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই তাঁর জন্মজয়ন্তী উদযাপন সার্থক হবে। বক্তব্যে তিনি কবিগুরুর আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি হওয়ায় তা সমগ্র বাঙালি জাতির গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, ঊনকোটি জেলাকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এই জেলায় রাজ্যভিত্তিক ধামাইল উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন অডিটোরিয়াম নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্যনাট্য ও নৃত্যানুষ্ঠান দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ছাত্রছাত্রীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মাত্রা প্রদান করে। রবীন্দ্রচেতনায় উদ্বুদ্ধ এই রাজ্যভিত্তিক আয়োজন ঊনকোটি জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন সংযোজন হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
No comments:
Post a Comment